একটি নক্ষত্রের আভায় আর একটি নক্ষত্রের জীবন আলো ঝলমলে হলো
একটি নক্ষত্রের আভায় আর একটি নক্ষত্রের জীবন আলো ঝলমলে হলো
এইম এম শরীফ উল্লাহ
ঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁ
ঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁঁ
বাবা নেই। বিধবা মা নয় বছরের একমাত্র ছেলে প্রহরকে নিয়ে জীবনের কঠিন সুমুদ্রে সময়ের ভেলায় চড়ে অমোঘ নিয়তির সাথে যুদ্ধে নেমেছেন।
বাবা একজন মাধ্যমিক স্কুলের অংক মাষ্টার ছিলেন। যিনি গ্রামের ছেলে-মেয়েদের স্বপ্নের বাগানে বৃক্ষ রোপণ এবং জল সেঞ্চন করতেন। তিনি তাঁর অংকের ক্লাসেই ছাত্রদের অংক বুঝাতে কখনো ক্লান্তি বোধ করতে না। আর নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মধ্যে যারা ক্লাসে অংক একটু কম বুঝত তাদের বিনে পয়সায় সপ্তাহে দু’ থেক তিন দিন বাসায় ডেকে এনে অংকে সাহায্য করতেন। সেই আশ্রাফ মাস্টার হঠাত পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় তিন মাস বিছানায় গড়াগড়ি খেয়ে অনন্তের পথে পা বাড়ালেন। রেখে গেলেন নয় বছরের প্রহর আর বিধবা স্ত্রীর জন্য কিছু সম্পদ। মা প্রহরকে বুকে জড়িয়ে মনের গভীরে একটি স্বপ্ন লালন করতে লাগলেন। এই ছেলেকে তার বাবার মতো বড়মাপের একজন মানুষ হিসেবে তৈরি করবেন। প্রহরের পিতার রেখে যাওয়া সম্পদ যা ছিল তা থেকে অল্প অল্প বিক্রি করে তাঁদের মা-ছেলের জীবন ও তার পড়াশুনা চলতে লাগলো। নবম শ্রেণী পর্যন্ত মোটামুটি ভাবে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছিলো প্রহর।
জীবন বসন্তের হাওয়া কখন থেকে যে বৃক্ষের কচি ডালে আঘাত হানতে শুরু করলো সে নিজেও টের পেলো না। আশ্রাফ স্যারের ছেলে প্রহর মেধাবী এবং প্রাণ চঞ্চল, প্রেজেন্টেবল মুখাবয়ব। তার চোখে মুখে যে বুদ্ধিদীপ্ত, দুরন্ত সৈনিকের সাহসী চেতনার ছাপ তা যে কোন বুদ্ধিমান মানুষের চোখ এড়াবে না। তা একই ক্লাসের হাজারে একজন মেধাবী সুন্দরী ছাত্রী অনুপমার অজানা ছিলো না। কিন্তু আশ্রাফ স্যারের অবর্তমানে ছেলেটির মেধা এবং লেখা পড়ার প্রয়াস যেন স্রোতহীনা নদীর জলের মতো দিন দিন নির্জীব হয়ে আসছিলো। সরকারী কলেজের অধ্যাপক অনুপমার বাবা শিশুকাল থেকেই তাঁর মেয়ের পড়াশুনায় সুযোগ্য সৈনিক হিসেবে গড়ে তোলতে অবহেলা করেন নি কখনো। প্রহরের প্রতি অনুপমার মনে কখনো কোন দুর্বলতার লেশ মাত্র তৈরি হয় নি। তবে আশ্রাফ স্যারের সন্তান হিসেবে মনে কিছুটা সহানুভূতির ছায়া পোষণ করতো বটে। ওরা দু’জন মাঝে মাঝে পড়াশুনায় পারস্পরিক সাহায্য করতো।
অনুপমার খাতায় প্রহর একদিন লিখে বসলো-
‘নীল সাগরের উত্তাল তরঙ্গ ভাসিয়ে চলেছে ভেলা
জীবন অরণ্যের কুঞ্জবনে বসেছে বসন্তের মেলা……।
হেলায় খেলায় কখন যে ঘনিয়ে চলেছে দুপুর
বসন্তের ফুল ফোটেছে কখন দেখে নি তা প্রহর……।’
পঙ্ক্তিগুলো পড়ে অনুপমার গা শিহরে উঠলো এবং প্রহরের প্রতি বিরক্তিবোধও জাগ্রত হলো তার মনে। পড়াশুনা ছাড়া সে কখনো এসব নিয়ে ভাবতে শিখে নি। আগের যে সহপাঠি হিসেবে একটা আন্তরিকতা ছিলো তা যেন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেলো। অনুপমার আচরণের পরিবর্তন দেখে প্রহরের অশান্ত মনের দিগন্ত যেন ক্রমশই ছোট হয়ে আসছে। দিন দিন পড়াশুনার প্রতি উপেক্ষা- তার দৈনিক পাঠ তৈরিতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে লাগলো। অনুপমার পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া পাহাড়ের ঝর্ণার জলের গতি যেন থমকে দাড়ালো। পাহাড় যেন ঝর্ণাকে বলেদিলো, আমি আর জল সর্বরাহ করতে পারব না।
প্রহর ক্লাসে একদিন গেলে তিন দিন বন্ধ করে। নবম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষায় রেজাল্ট তেমন ভালো হলো না। এতে অনুপমার বিবেক যেন তাকে নাড়া দিয়ে বললো- হায়রে অনুপমা! তোর একটূ ভালোবাসার ছায়া পেলে দুরন্ত মেধাবী ছেলেটির চঞ্চলতা সারা পৃথিবীকে জাগ্রত করে দিতে পারতো। সেই থেকে অনুপমা মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে বসলো, কৃত্রিম ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিয়ে হলেও বাবা হারা বিধবা মা’য়ের সন্তান প্রহরের দুখি জীবনের মলিন আকাশে জীবন-সাফল্যের সূর্যের হাসি ফুটাবেই। কোন এক বিকেলে প্রহরের মাকে এসে বলে গেলো,
-’চাচি, প্রহর কোথায়? সে আসলে বলবেন যেন আমাদের বাড়িতে একটূ আসে, বলবেন তো চাচি?’>
-’ঠিক আছে মা, বলবো।,
রাতে প্রহরকে খানা পাতে মা বললেন,
-’বাবা প্রহর, অনুপমা এসেছিলো কাল, কেন যে তোকে ওদের বাড়ি যেতে বললো। কাল তুই একটু ওদের বাড়ি যাস বাবা।’
প্রহর মাথা নাড়িয়ে হ্যা বোধক সায় দিলো।
পর দিন প্রহর ওদের বাড়ি আসলে অনুপমা একটু মুচকি হেসে বললো-,
-’কেমন আছো প্রহর?’
-’ভালো,
-’কাল আশ্রাফ স্যারকে স্বপ্নে দেখলাম, আমাকে বললেন, “মা, আমি কখনও মানুষের সন্তানকে পর ভাবি নি। আপন ভেবে মানুষ করতে চেয়েছি, আমি নাই বলে আজ আমার সন্তানটা দিন দিন পড়াশুনায় খারাপ করছে। মা, তুমি একটূ ওকে পড়াশুনায় উৎসাহ দিও, আমার সন্তানের জন্য এতটুকু পারবে না মা? আমার আর কোন দাবি নেই তোমাদের কাছে।” আর আমার কাছেও খুব খারাপ লাগছিলো, তোমার ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট এতোটা ভালো না হওয়ায়। এখন থেকে আমরা এক সাথে স্কুলে যাব। কি বলো প্রহর?’
(কথাগুলো সে নিজ থেকেই বানিয়ে বললো যেন সত্যি সত্যি স্বপ্নে দেখেছে।)
এই কথা শুনে প্রহরের চেহারায় যেন এক ঝলক আনন্দের আভা ঝল্কে দিয়ে গেলো।/>
-’ঠিক আছে।’
-’তা হলে এই কথাই রইলো।’
-’আচ্ছা’ অনুমতি চেয়ে বললো, ‘আমি এখন আসি?’
এ কথা বলে সে চলে গেলো। সে দিন থেকে ওরা পারস্পরিক সহযোগিতা এবং স্কুলে এক সাথে আসা যাওয়া করতে শুরু করলো। এবার অনুপমা এবং প্রহর ওরা দুজনই ক্লাসে সর্বোচ্চ নাম্বার পেতে লাগ্লো। অবশেষে এস এস সি পরীক্ষা হলো। দু’জনই স্টার মার্কস পেয়ে পাস করলো।
ইন্টারেও ভালো রেজাল্ট করলো। পরে ওরা দু’জনই ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তির চান্স পেলো। ধীরে ধীরে অনুপমার সেই করূণার কৃত্রিম ভালোবাসা আন্তরিকতার কারাগারে বন্ধি হলো কখন সে নিজেও জানে না।
এম বি বি এস কমপ্লেইট করা হলো যথা সময়ে।
ওরা দু’জনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল- সুখের ঘর বাঁধবে,
অনুপমা তার বাবাকে সম্মতি আদায়ের দাবি জানিয়ে বললো
– ‘বাবা, তোমাকে একটা কথা বলবো বলবো বলে আর বলা হয় না, তুমি যদি সাহস দাও তাহলে এখনই বলবো বাবা।’
-’বল না মা’
-’বাবা আগে বলো কথা রাখবে কি না।’
-’মা আমি তোর কোন কথা কখনো রাখি নি বল? তোর মা চলে যাবার পর তোর কষ্ট হবে বলে আমি আর বিয়ে করি নি শুধু তোর সুখের চিন্তা করে। তোর সুখের জন্য তুই যা বলবি তাই হবে।’
-’আমি প্রহরকে বিয়ে করতে চাই। তুমি কি বলো?’
-’প্রহরের ব্যাপারে একটা আপত্তি ছিলো। ওর পড়াশুনায় ওদের সব সম্পদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সে তো এখন এম বি বি এস ডাক্তার হয়েছে। তোরা দু’জন এক সাথে ডাক্তারী পেশায় ঢোকলে রাজার হালে দিন চলে যাবে তোদের। এতে আর আমার আপত্তির কি আছে বল মা?’
অবশেষে ওরা একি সাথে একই হস্পিটালে ডাক্তার হিসেবে জয়েন করলো।
এভাবে একটি নক্ষত্রের আভায় আর একটি নক্ষত্রের জীবন আলো ঝলমলে হলো।
-’ঠিক আছে মা, বলবো।,
রাতে প্রহরকে খানা পাতে মা বললেন,
-’বাবা প্রহর, অনুপমা এসেছিলো কাল, কেন যে তোকে ওদের বাড়ি যেতে বললো। কাল তুই একটু ওদের বাড়ি যাস বাবা।’
প্রহর মাথা নাড়িয়ে হ্যা বোধক সায় দিলো।
পর দিন প্রহর ওদের বাড়ি আসলে অনুপমা একটু মুচকি হেসে বললো-,
-’কেমন আছো প্রহর?’
-’ভালো,
-’কাল আশ্রাফ স্যারকে স্বপ্নে দেখলাম, আমাকে বললেন, “মা, আমি কখনও মানুষের সন্তানকে পর ভাবি নি। আপন ভেবে মানুষ করতে চেয়েছি, আমি নাই বলে আজ আমার সন্তানটা দিন দিন পড়াশুনায় খারাপ করছে। মা, তুমি একটূ ওকে পড়াশুনায় উৎসাহ দিও, আমার সন্তানের জন্য এতটুকু পারবে না মা? আমার আর কোন দাবি নেই তোমাদের কাছে।” আর আমার কাছেও খুব খারাপ লাগছিলো, তোমার ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট এতোটা ভালো না হওয়ায়। এখন থেকে আমরা এক সাথে স্কুলে যাব। কি বলো প্রহর?’
(কথাগুলো সে নিজ থেকেই বানিয়ে বললো যেন সত্যি সত্যি স্বপ্নে দেখেছে।)
এই কথা শুনে প্রহরের চেহারায় যেন এক ঝলক আনন্দের আভা ঝল্কে দিয়ে গেলো।/>
-’ঠিক আছে।’
-’তা হলে এই কথাই রইলো।’
-’আচ্ছা’ অনুমতি চেয়ে বললো, ‘আমি এখন আসি?’
এ কথা বলে সে চলে গেলো। সে দিন থেকে ওরা পারস্পরিক সহযোগিতা এবং স্কুলে এক সাথে আসা যাওয়া করতে শুরু করলো। এবার অনুপমা এবং প্রহর ওরা দুজনই ক্লাসে সর্বোচ্চ নাম্বার পেতে লাগ্লো। অবশেষে এস এস সি পরীক্ষা হলো। দু’জনই স্টার মার্কস পেয়ে পাস করলো।
ইন্টারেও ভালো রেজাল্ট করলো। পরে ওরা দু’জনই ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তির চান্স পেলো। ধীরে ধীরে অনুপমার সেই করূণার কৃত্রিম ভালোবাসা আন্তরিকতার কারাগারে বন্ধি হলো কখন সে নিজেও জানে না।
এম বি বি এস কমপ্লেইট করা হলো যথা সময়ে।
ওরা দু’জনই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল- সুখের ঘর বাঁধবে,
অনুপমা তার বাবাকে সম্মতি আদায়ের দাবি জানিয়ে বললো
– ‘বাবা, তোমাকে একটা কথা বলবো বলবো বলে আর বলা হয় না, তুমি যদি সাহস দাও তাহলে এখনই বলবো বাবা।’
-’বল না মা’
-’বাবা আগে বলো কথা রাখবে কি না।’
-’মা আমি তোর কোন কথা কখনো রাখি নি বল? তোর মা চলে যাবার পর তোর কষ্ট হবে বলে আমি আর বিয়ে করি নি শুধু তোর সুখের চিন্তা করে। তোর সুখের জন্য তুই যা বলবি তাই হবে।’
-’আমি প্রহরকে বিয়ে করতে চাই। তুমি কি বলো?’
-’প্রহরের ব্যাপারে একটা আপত্তি ছিলো। ওর পড়াশুনায় ওদের সব সম্পদ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু সে তো এখন এম বি বি এস ডাক্তার হয়েছে। তোরা দু’জন এক সাথে ডাক্তারী পেশায় ঢোকলে রাজার হালে দিন চলে যাবে তোদের। এতে আর আমার আপত্তির কি আছে বল মা?’
অবশেষে ওরা একি সাথে একই হস্পিটালে ডাক্তার হিসেবে জয়েন করলো।
এভাবে একটি নক্ষত্রের আভায় আর একটি নক্ষত্রের জীবন আলো ঝলমলে হলো।
এই পোস্টের বিষয়বস্তু ও বক্তব্য একান্তই পোস্ট লেখকের নিজের, লেখার যে কোন নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব লেখকের। অনুরূপভাবে যে কোন মন্তব্যের নৈতিক ও আইনগত দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্তব্যকারীর। শব্দনীড় ব্লগ কোন লেখা ও মন্তব্যের অনুমোদন বা অননুমোদন করে না।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
বাহ বেশ তো!!
অভিনন্দন জানবেন
ভালো থাকুন
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
অনেক অনেক ভালো থাকুন। অভিনন্দন আপনাকেও শ্রদ্ধেয় ডা. দাউদ ভাই।
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
শুভকামনা থাকলো
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন
এই সদস্যের ভবিষ্যত সব পোস্ট মডারেট করুন